স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দাম আর লাগামহীন চোরের উপদ্রব—এই দুই মিলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যশোরবাসী। সম্প্রতি চোর চক্র অভিনব ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে রান্নাঘর ও বাথরুমের এক্সহস্ট ফ্যান খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান গহনা ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ হলো জেলায় মাদক ও নেশার ভয়াবহ বিস্তার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান গাফিলতি।
নেশা ও চুরির ভয়াবহ চক্র
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর শহর ও শহরতলির বেশ কিছু এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদক সেবনকারীদের একটি বড় অংশই মাদকের অর্থের জোগান দিতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
- মাদকের চাহিদা: মাদকের সহজলভ্যতা নেশাগ্রস্ত তরুণ-যুবকদের মধ্যে অর্থের তীব্র চাহিদা সৃষ্টি করছে। এই চাহিদা মেটাতেই তারা ঝুঁকি নিয়ে নতুন কৌশল (‘এক্সহস্ট ফ্যান খুলে প্রবেশ’) অবলম্বন করছে।
- অপরাধ বৃদ্ধি: স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসার প্রসার এবং নেশাগ্রস্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চুরি, ছিনতাই, খুন ও জখমের মতো অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। বেশ কিছু অপরাধীর বিরুদ্ধেও মাদক ও চুরির একাধিক মামলা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন: গাফিলতির অভিযোগ
যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ অপরাধীদের গ্রেফতার করছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। - তালিকাবদ্ধদের মুক্তি: অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের বড় ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হলেও, আইনের ফাঁক গলে বা অদৃশ্য প্রভাবে অনেকেই দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে।
- নিয়ন্ত্রণহীনতা: শহরের রেলগেট, রায়পাড়া, খড়কি, শংকরপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অবৈধ মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার চললেও, তা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই গাফিলতির কারণেই সাধারণ মানুষ অনিরাপদ বোধ করছে।
নাগরিকদের করণীয়: চরম সতর্কতা জরুরি
এমন পরিস্থিতিতে যশোরবাসীকে চরম সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যেহেতু অপরাধের মাত্রা বেড়েছে, তাই আত্মরক্ষার জন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যাবশ্যক। - ১. এক্সহস্ট ফ্যানে নিরাপত্তা: অবিলম্বে এক্সহস্ট ফ্যানের খোলা অংশে শক্তিশালী গ্রিল বা নিরাপত্তা জাল স্থাপন করতে হবে।
২. মূল্যবান সামগ্রী রাখুন ভল্টে: মূল্যবান গহনা ও নগদ টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষণ করুন।
৩. প্রযুক্তির ব্যবহার: তুলনামূলক কম খরচে এখন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা যায়। বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও দুর্বল স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
প্রশাসনকে অবশ্যই মাদকের উৎস ও চুরির ঘটনাগুলোর দ্রুত কিনারা করতে হবে, অন্যথায় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বাড়তেই থাকবে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।